২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের সময় শহীদ হওয়া ৫৭ অফিসারসহ ৭৪ জনের হত্যাকাণ্ডের ‘সঠিক বিচার’ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করতে যাচ্ছে শহীদ পরিবারের সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) রাজধানীর মহাখালী রাওয়া হলে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে শহীদ পরিবারের সদস্যরা জানান, তারা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাদের অভিযোগ দাখিল করবেন। বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার প্রকৃত দায়ীদের, বিশেষ করে পর্দার আড়ালের ষড়যন্ত্রকারীদের বিচার দাবি করেন তারা।
বিদ্রোহে শহীদ কর্নেল কুদরত ইলাহীর সন্তান অ্যাডভোকেট সাকিব রহমান বলেন, “বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যারা ষড়যন্ত্র করেছেন, তাদের বিচারের আওতায় আনা উচিত।” তিনি অভিযোগ করেন যে, বিগত সরকারের সময়ে বিচার প্রক্রিয়ায় কোনও সঠিক অগ্রগতি হয়নি এবং মামলার পরিস্থিতি শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেয়ার করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, “আমরা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করব। সেখানে শেখ হাসিনা, শেখ ফজলে নূর তাপস, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজমসহ তৎকালীন সেনা কর্মকর্তা, বিশেষ করে ডিজিএফআই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হবে।”
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শহীদ পরিবারের সদস্যরা এই দিনটিকে ‘শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে গ্যাজেটের মাধ্যমে ঘোষণা করার দাবি জানান। শহীদ কর্নেল মজিবুল হকের স্ত্রী নাহরীন ফেরদৌসী বলেন, “২৫ ফেব্রুয়ারিকে ‘শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হোক এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের জন্য নতুন তদন্ত শুরু করা হোক।”
তিনি আরও বলেন, “৫৭ জন শহীদ সেনাকে অফিসিয়াল গ্যাজেটে শহীদের মর্যাদা দেওয়া, পিলখানা ট্র্যাজেডি স্কুলের পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা এবং আটককৃত নির্দোষ ব্যক্তিদের দ্রুত ন্যায় বিচার দেওয়া উচিত।”
এসময় শহীদ লে. কর্নেল কাজী রবি রহমানের স্ত্রী ডা. ফৌজিয়া রশিদ, শহীদ কর্নেল এরশাদের ভাই ডা. মামুন, শহীদ কেন্দ্রীয় সুবেদার মেজর নুরুল ইসলামের ছেলে আশরাফুল আলম হান্নান, শহীদ কর্নেল কুদরত এলাহী সহ অন্যান্য শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।